খেলাধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খেলাধুলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

বাঁধ নির্মাণে দূর্নীতির বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো: কৃষিমন্ত্রী

বাঁধ নির্মাণে দূর্নীতির বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো: কৃষিমন্ত্রী

 



বাঁধ নির্মাণে পিআইসির দূর্নীতি অনিয়মের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড.মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, দেশ আজ উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। দেশে আজ খাদ্য ঘাটতি নেই, সংকট নেই, হাহাকার নেই সুতারাং হাওরের কৃষকরা না খেয়ে থাকবে না। যে সকল কৃষকদের বোরো ধান তলিয়ে গেছে, তাদেরকে খাদ্য সহায়তা করা হবে।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চাপতির হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি এই সব কথা বলেন।

কৃষি মন্ত্রী আরও বলেন,হাওরের ধান তোলা নিয়ে আমি সব সময় আতংকে থাকি, কখন কি হয়। কারণ প্রকৃতির উপর আমাদের হাত নেই। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ যাতে প্রতি বছর ডিসেম্বরের আগে শুরু করা যায়, সেটা নিয়েও আমি কথা বলব।

হাওরের পুরো ধান যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে চালের দাম অব্যশই বাড়বে। তখন কেউ বলবে না, হাওরের ধান তলিয়ে গেছে। বলে চালের দাম বেড়েছে। তখন দেশের বিরোধী দলসহ সবাই খাদ্য মন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইবে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সদস্য মহিবুর রহমান মানিক, সিলেট-সুনামগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামিমা আক্তার খানম প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১

 সিলেটে ফের শুরু হচ্ছে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রম

সিলেটে ফের শুরু হচ্ছে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রম

 


সিলেট মহানগরীতে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার মহানগরের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী এই টিকা গ্রহণ করবে। প্রাথমিক অবস্থায় ২৫ হাজার ৩ শত ৯৪ জন স্কুল শিক্ষার্থী এই ভ্যাকসিনের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।

এ তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন চারটি কেন্দ্রে নগরের বিভিন্ন স্কুলের মোট ৬ শত শিক্ষার্থীদের এ টিকা প্রদান করা হবে।কেন্দ্রগুলো হলো, সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়।

এর আগে  গত ১৪ অক্টোবর ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ১২০ স্কুল শিক্ষার্থীর মধ্যে ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। এসব শিক্ষার্থী কোনো সমস্যায় না পড়ায় পরবর্তীতে সারাদেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে সুরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) গত ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিকের স্কুল শিক্ষার্থীদের তথ্য চায়। পরে গত নভেম্বরের শুরুতে ১ লাখ ৭০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীর তথ্য পাঠায় সিলেট জেলা শিক্ষা অফিস।

সিলেট জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তথ্য পাঠালেও এসব শিক্ষার্থীকে তখন ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ফাইজারের ভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এজন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হয়। কিন্তু সিলেটের স্কুলগুলোতে এই ব্যবস্থা না থাকায় ভ্যাকসিন প্রদান গতি পায়নি। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ে। কেননা, অনেক শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদই অনলাইনে ছিল না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী সোমবার সিলেট নগরের চারটি প্রতিষ্ঠানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাছাড়া জন্মনিবন্ধন সনদের বাধ্যবাধকতাও এখন তুলে দেওয়া হয়েছে। এ চারটি স্কুলে অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার থেকে স্কুল শিক্ষার্থীদের ফাইজারের ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। চারটি স্কুলে প্রতিদিন ৬০০ করে ২ হাজার ৪শ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কেন্দ্রগুলোতে আমাদের লোকবল থাকবে। মহানগরীর ২৫ হাজার ৩ শত ৯৪ শিক্ষার্থীকে প্রথম ধাপে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। আমরা ভ্যাকসিন সরবরাহ করবো।’

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১

মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

মণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

 



কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন।

কুমিল্লা শহরে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইকবাল কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

তিনি জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেয়ার কথাও পুলিশের কাছে বলেছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে এই কাজ করেছেন, তা এখনও ইকবাল জানাননি।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর থেকেই ইকবাল অসংলগ্ন আচরণ করছেন।

কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা পুলিশ লাইনে নেয়ার পর থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট।

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে শুক্রবার দুপুরে নেয়া হয় কুমিল্লা পুলিশ লাইনে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও মনির আহমেদ জানান, বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ইকবালের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

পরে বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টার দিকে এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে আসে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা যুবকের নাম ইকবাল হোসেন। ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

ইকবালের সহযোগী সন্দেহে ইকরামসহ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কুমিল্লা নগরীর শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের সহকারী খাদেম হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আহমেদ ও ফয়সাল আহমেদও রয়েছেন। এই মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন এই চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। 

সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

 গ্রামকে উন্নয়নে ভরপুর করেছে সরকার: পরিকল্পনামন্ত্রী

গ্রামকে উন্নয়নে ভরপুর করেছে সরকার: পরিকল্পনামন্ত্রী

 

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, এখন সারা দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, গ্রামে গঞ্জে রাস্তাঘাট, সেতু কালভার্টে গ্রামকে উন্নয়নে ভরপুর করেছে। গ্রামের মানুষ যা কল্পনা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ উন্নয়নের মাধ্যমে সেটাই করছে।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে গভীর নলকূপ ও টুইন-পিট ল্যাট্রিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জের মানুষকে ভালোবাসেন।

তিনি হাওরকে ভালোবাসেন। তিনি আমাকে সবসময়ই জিজ্ঞেস করেন সুনামগঞ্জের মানুষ সরকারের সুবিধা পাচ্ছে কিনা, তাদের উন্নয়ন হচ্ছে কিনা। হাওরবাসীর উন্নত জীবনের কথা চিন্তা করেই শেখ হাসিনা টিউবওয়েল,স্বাস্থ্য সম্মত ল্যাটিন দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার উজ জামানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল কাশেম, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রব সরকার প্রমুখ।

শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেখে চিনারই উপায় নেই উনি শখ

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেখে চিনারই উপায় নেই উনি শখ

 


দেশের টিভি নাটকে এক সময় জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। নানা রকম বিজ্ঞাপনেও রোজ দেখা মিলতো তার। দেশের প্রায় সব বড় শহর ছেয়ে গিয়েছিল তার হাসিমাখা ছবির বিলবোর্ডে। সেই আনিকা কবির শখ এখন শোবিজে অনিয়মিত।

গত বছর জানা যায় তিনি বিয়ে করেছেন। এবার খবর ভেসে এলো তিনি মা হতে যাচ্ছেন। এ খবর অবশ্য কোনো গুঞ্জন নয়। শখ নিজেই গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ মুহূর্তে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

আজ শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেখা গেলো গর্ভবতী শখের কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। বিশেষ করে স্বামীর সঙ্গে তার ছবিটি নজর কেড়েছে সবার। এই ছবিতে শখ স্বভাবতই অনেকটা মুটিয়ে গেছেন দেখা যাচ্ছে। তার শারীরিক পরিবর্তনও লক্ষণীয়।

অনেকে ছবিটি দেখে শখের আগেকার সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করে নানা রকম ‘বডি শেমিং’ করছিলেন। তারই প্রতিবাদে শোবিজের অনেক শিল্পী ও শখের অনুরাগীরা ছবিটি শেয়ার করছেন। সেই সঙ্গে মাতৃত্বের জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন শখকে।

মা হওয়ার আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে শখ কিছু দিন আগে জানিয়েছিলেন, ‘এটা আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। আমার দিন কেটে যায় একটা নতুন মানুষের কথা ভাবতে ভাবতে। আমাকে এ দীর্ঘসময় ধরে দেখভাল করা চিকিৎসক বলেছেন মনটাকে একদম ফ্রেশ রাখতে। আমি সময়টাকে উপভোগ করছি।’

শখের কোল আলো করে পূর্ণিমা চাঁদের হাসি নেমে আসুক তার অনাগত সন্তানের মুখে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১২ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শখ। তার স্বামীর নাম রহমান জন। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার বলিয়াদি গ্রামে। বর্তমানে শখ সেখানেই অবস্থান করছেন। মাঝে মাঝে রাজধানীর উত্তরায়ও নিজেদের বাসায়ও থাকেন।


শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বন্যার অজুহাতে বেড়েছে ডিম-মুরগির দাম

বন্যার অজুহাতে বেড়েছে ডিম-মুরগির দাম

 


হঠাৎ করেই রাজধানীর বাজারগুলোতে মুরগি ও ডিমের দাম বেশ বেড়ে গেছে। প্রতিটি ডিমে দুই টাকা এবং প্রতি কেজি মুরগিতে দাম বেড়েছে ৮০ টাকা পর্যন্ত। দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দেখা দেওয়া বন্যার অজুহাতে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ডিম ও মুরগির দাম আকস্মিক বাড়িয়ে দিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের খুচরা ও পাইকারি ডিম-মুরগি ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানিয়েছেন, মুরগি ও ডিমের দামের ওপর রাজধানীর ব্যবসায়ীদের খুব একটা নিয়ন্ত্রণ নেই। ডিম ও মুরগির দাম এখন অনেকটাই নির্ভর করে গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ওপর। মূলত গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের বেঁধে দেওয়া দামেই রাজধানীতে ডিম ও মুরগি বিক্রি হয়।

ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছেন, এখন বাজারে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। মূলত উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাজারে ডিম-মুরগির দাম বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া এ মুহূর্তে দাম বাড়ার আর কোনো বিশেষ কারণ নেই।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। আর মুদি দোকানে এক পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৮ টাকা।

ফার্মের মুরগির ডিমের পাশাপাশি দাম বেড়েছে হাঁসের ডিমেরও। এক ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

ডিমের এমন দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাসেম আলী জাগো নিউজকে বলেন, আমরা ডিম আনি গাজীপুর থেকে। সপ্তাহ দুই ধরে ওখানে ডিমের দাম বাড়ছে। বেশি দামে কেনা কারণে আমরা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

হঠাৎ ডিমের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে আগের মতোই ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তারপর কেন ডিমের দাম বাড়ছে বলতে পারবো না। তবে গাজীপুরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যার কারণে মুরগির খামারের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এ কারণে দাম বাড়ছে।

এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, ঢাকায় সব থেকে বেশি ডিম বিক্রি হলেও ডিমের দামের ওপর ঢাকার ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ডিমের দাম মূলত গাজীপুর, জয়দেবপুর ও টঙ্গীর ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করে। ডিমের দাম বাড়বে কি কমবে, ওনারাই ঠিক করে দেন।

মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর জাগো নিউজকে বলেন, ডিমের দাম কেন বাড়ছে, তা আমরা জানি না। তবে পাইকারি বাজারে গিয়ে যেটা শুনতে পারছি, বন্যার কারণে দাম বেড়েছে। সামনে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গাজীপুরের ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, বন্যার কারণে এখন ডিমের যোগান অনেক কমে গেছে। দেশি মুরগির ডিম খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক ফার্ম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগান কম থাকায় আমাদের বেশি দামে ডিম সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিমের দাম বাড়ার পেছনে কোনো সিন্ডিকেট নেই। দাম নির্ভর করে যোগানের ওপর। কিছুদিন আগে ডিমের যোগান বেশি থাকায় বিক্রিও হয়েছে কম দামে। বন্যা পরিস্থিতি ভালো হলে আবার দাম কিছুটা কমে যেতে পারে।

এদিকে কিছুদিন আগে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকিস্তানী কক বা সোনালী মুরগির দাম বেড়ে এখন ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা।

মুরগির এ দাম বাড়ার কারণ হিসেবে কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকায় মুরগির সব থেকে বড় বাজার কাপ্তান বাজার। কিন্তু মুরগির দাম কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করে না। এখানে যে মুরগি আসে, তার বড় অংশ সরবরাহ করে গাজীপুর ও জয়দেবপুরের ব্যবসায়ীরা।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু শুনেছি, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যায় অনেক পোল্ট্রি খামার ভেসে গেছে। ফলে পোল্ট্রি মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। এতে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে।

যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী জাবেদ বলেন, পাইকারি বাজারে গেলেই শুনি বন্যায় সব মুরগি মরে গেছে। কিন্তু বাজারে মুরগির কোনো ঘাটতি দেখি না। আমাদের ধারণা, বড় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে করে মুরগির দাম বাড়াচ্ছে। বাড়ানোর পেছনে গাজীপুরের ব্যবসায়ীরাও থাকতে পারেন। কারণ, এখন গাজীপুরকেন্দ্রিক অনেক বড় বড় ফার্ম হয়েছে। ঢাকায় মুরগির সরবরাহ ওখানকার ব্যবসায়ীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।


বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

 ফেসবুকে মত প্রকাশ করা কি অপরাধ...?

ফেসবুকে মত প্রকাশ করা কি অপরাধ...?

 

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, বুধবার, ০৮:১১ অপরাহ্ণ
 
 

ফেসবুকে নিজের মত প্রকাশ করা, কারো সমালোচনা করা কোনোভাবেই অপরাধ নয়। স্বাধীন রাষ্ট্রে সকলের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে- এমন মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা তবরাক হোসাইন প্রশ্ন তোলেছেন, কোন অপরাধে ঝুমন দাসকে ছয় মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে? তার অপরাধ কি?

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচীতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্যে এমন প্রশ্ন তোলেন তবরাক হোসাইন।

তিনি বলেন, ঝুমন দাস হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে লিখেছেন। এই মামুনুল হকের সমালোচনা সংসদে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও করেছেন। নানা অভিযোগে মামুনুল কারাগারেও আছেন। তারপরও মামুনুলের সমালোচনার কারণে ঝুমনকে কেনো ছয় মাস ধরে জেলে থাকতে হবে?

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গত ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাস। পর দিন ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর দিন সকালে ঝুমনের গ্রাম নোয়াওগাওয়ে হামলা চালায় হাজারো সশস্ত্র লোক। তারা ভাংচুর করে ওই গ্রামের প্রায় ৯০টি হিন্দু বাড়ি। বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার হওয়া সকলেই জামিন লাভ করেছেন। তবে ছয় মাসেও জামিন মিলেনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ঢা ঝুমনের।

এর প্রতিবাদে এবং ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সিলেটে এই প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচীর আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’।

প্রতিবাদী কর্মসূচীর শুরুতে শাল্লার নোয়াগাওয়ে হামলা, ঝুমনের গ্রেপ্তার ও জামিন না পাওয়ার পুরো পেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক আব্দুল করিম কিম।

তিনি বলেন, ঝুমন দাস একজন গ্রাম্য যুবক। সে মামুনুল হককে নিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলো সেটিকে পুঁজি করে একটি গোাষ্ঠি হাজার হাজার মানুষকে উসকে দিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। সেদিন কি পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো মানুষগুলো। অথচ নিজেদের প্রাণ রক্ষায় হামলার আগের রাতেই ঝুমন দাসকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছিলো সংখ্যালঘু গ্রামটির বাসিন্দারা। তার পরও তারা রক্ষা পায়নি। এ ঘটনায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলায় মামলা হয়েছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা সবাই জামিন পেয়েছেন। আর ঝুমন দাস এখনো জেল হাজতে। তার ৬ মাসের সন্তান নিয়ে অসহায় স্ত্রী পথে পথে ঘুরছেন। আমরা ঝুমন দাসের মুক্তি চাই। সেই সাথে ডিজিটাল কালো আইন নামক যে আইনে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, এই কালো আইন দিয়ে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নষ্ট করা হয়েছে- সে আইন বাতিল দাবি করছি।

‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক দেবাশীষ দেবুর সঞ্চালনা এ অবস্থান কর্মসূচিতে সমাপনী বক্তব্যে প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসাইন বলেন, স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে বাঙালিদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিলো, শোষণ-নির্যাতন ছিলো। তাই আমরা এমন দেশ চেয়েছিলাম যেখানে শোষণ নির্যাতন থাকবে না। আমাদের মূল সংবিধানে নিবর্তনমূলক কোন আইনও ছিলো না। পরে এগুলো যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতা হরণ হয়েছে। যার উদাহরণ ঝুমন দাস। সে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলো সেটি আমি পড়েছি। স্ট্যাটাসে কিছু অতিরঞ্জন থাকতে পারে। তবে এটা কোনোভাবেই অপরাধ নয়।

তবারক বলেন, এ দেশে ওয়াজ মাহফিলের নামে প্রতিনিয়ত মানুষের ধর্মানুভ’তিতে আঘাত করা হয়। সব ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অথচ ফেসবুকে নীরিহ কেউ কিছু লিখলেই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এই আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

এই আইনজীবী বলনে, ঝুমনের জামিনের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট দেওয়ার কথা। আশা করি মহামান্য হাইকোর্ট যথাযথ বিবেচনার মাধ্যমে ঝুমন দাসকে জামিন দিবেন। এবং সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব এনামুল মুনির, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেটের সমন্বয়ক উজ্জ্বল রায়, হাওর ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাশমির রেজা, কবি আবিদ ফায়সাল, সারী বাঁচাও আন্দোলন নেতা আব্দুল হাই আল হাদি, শিক্ষক ও সংগঠক প্রণবকান্তি দেব, আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন, মাহবুব রাসেল, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী নিরঞ্জন সরকার অপু, তানভীর রুহেল, হিতাংশু কর বাবু, রাজীব রাসেল প্রমুখ।

 সিলেটে ৬ দফা দাবিতে পরিবহণ শ্রমিকদের মানববন্ধন

সিলেটে ৬ দফা দাবিতে পরিবহণ শ্রমিকদের মানববন্ধন

 

                                         @thesylhetnews.net News & Media Website


সিলেটে সিএনজি চালিত অটোরিক্সার বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের মামলা, জরিমানা ও রেকারিং হয়রানির প্রতিবাদে এবং ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি-২৭৮৫, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন-৭০৭ এবং সিলেট জেলা অটোরিক্সা, অটোটেম্পু, শ্রমিক জোট রেজি নং-২০৯৭ এর উদ্যোগে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং-৭০৭ এর সভাপতি এবং সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া আহমদ বলেন, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। তারপর পরিবহণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহণ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা রোজগার না করতে পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে। সরকার লকডাউন শীতিল করায় পরিবহণ শ্রমিকরা আবারও কাজে ফিরে। কিন্তু সিলেটের ট্রাফিক বিভাগের অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা পরিবহন শ্রমিকদের অযথা হয়রানি করছে। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হলেই মামলা ও জরিমানা প্রদান করে যাচ্ছে। প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে শ্রমিকরা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা রোজগার করে। অথচ ট্রাফিক পুলিশ অযথা মামলা জরিমানা করে চালকদেরকে হয়রানি করছে। যাত্রী পরিবহণেও পাঁচ জনের জায়গায় তিনজন না নিলে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করছে। তাদের কারণে যাত্রীদেরও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ পরিবহণ শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে ৬ দফা দাবি না মানলে পরিবহণ ধর্মঘট দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, বিআরটিএর দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে চালকরা সঠিকভাবে লাইসেন্স পাচ্ছে না। আর সে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ট্রাফিক বিভাগের কিছু পুলিশ কর্মকর্তারা। যদি বিআরটিও দূর্নীতি বন্ধ না করা হয় তাহলে আমরা বিআরটি অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হবো।

মানববন্ধনে বক্তারা ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবি সমূহের মধ্যে হল- সিএনজি চালিত অটোরিক্সা বর্ধিত কর প্রত্যাহার করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ইং এর সংশোধন সহ বিধিমালা প্রণয়নের পূর্ব পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মামলা দেওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত জরিমানা বন্ধ করতে হবে। অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিক্সা, অটোবাইক, টমটম, মটরবাইক ও প্রাইভেট, কার-লাইটেস দ্বারা যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে হবে। সিলেট জেলায় ও মহানগরে সিএনজি অটোরিক্সার জন্য পার্কিং স্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

সিলেট জেলা ও মেট্রো আর.টি.সিতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হবে। নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণে ও ট্যাক্স, ফিটনেস, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়নে এবং মালিকানা বদলি সহ সকল কার্যক্রমে বি.আর.টিএ সিলেটের সকল প্রকার দূর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক রেকারিয় সহ প্রতিযোগিতা মূলক মামলা ও জরিমানা প্রদান বন্ধ করতে হবে।

সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি শাহ মো. দিলওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা কমিটির সদস্য রাজা আহমদ রাজার পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতি-২৭৮৫ এর কার্যকরি সভাপতি জামিল আহমদ, সহ-সভাপতি ইকবাল আহমদ চৌধুরী সাহাব, সাধারণ সম্পাদক মো: আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: বুলবুল আহমদ, অর্থ সম্পাদক মো: হানিফ মিয়া, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মো; বেলাল আহমদ, প্রচার সম্পাদক ইহসানুল হক সানুর, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন-৭০৭ এর কার্যকরি কমিটির সভাপতি মো; সুন্দর আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: শাহাব উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক কাওছার আহমদ, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সদস্য মো: লিটন আহমদ, কল্যাণ সম্পাদক মো: মন্নান মিয়া।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন-৭০৭ এর সদস্য তপন, বরকত আলী, আশরাফ চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, সিলেট জেলা অটোটেম্পু ও অটোরিক্সা শ্রমিক জোট-২০৯৭ এর সভাপতি খলিল খাঁন, কার্যকরী সভাপতি মো: মতছির আলী, সিলেট সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং-৭০৭ এর সহ-সভাপতি আবুল হোসেন খান প্রমুখ।

সিলেটের জাফলংয়ে তাহসান-সাবিলাদের শুটিং

সিলেটের জাফলংয়ে তাহসান-সাবিলাদের শুটিং

The Sylhet News Suhan Online Website

সিলেটের জাফলং এক অপরূপ পর্যটনকেন্দ্র। যেখানে পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়ে ভেসে বেড়ায় মেঘ। তিনদিন সেখানে শুটিং করে ঢাকা ফিরেছেন তাহসান, মাজনুন মিজান ও সাবিলা নূর। টিভি নাটকের এই তিন ব্যস্ত অভিনেতা-অভিনেত্রী জাফলং গিয়েছিলেন ‘আকাশের ওপারে আকাশ’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মের শুটিংয়ে।

সারা বছর ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট কিছু লোকেশনে শুটিং করে খানিকটা একঘেঁয়ে পরিস্থিতি তৈরি হয়। আউটডোরে শুটিং হলে শিল্পীদের উচ্ছ্বাসও তাই বেড়ে যায়। আর জায়গাটা পাহাড় হলে তো কথাই নেই। একটু ঘোরাঘুরি, একটু কাজ—সময়টা কেটে যায় ভালো।

শুটিংয়ের তিনটা দিন দারুণ কেটেছে তাহসানের। জাফলং তাঁর পছন্দের জায়গা। জানালেন, বেড়াতে ও কাজে আগেও অনেকবার গেছেন সেখানে। এবার ভালো একটি কাজ শেষ করে ফিরতে পেরেছেন—এটাই বাড়তি আনন্দের।

‘আকাশের ওপারে আকাশ’ ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করে ভীষণ খুশি মাজনুন মিজানও। তিনি বলেন, এটির পরিচালক নাহিয়ান আহমেদ। তরুণ নির্মাতা। সুন্দর কাজ করেন। নান্দনিক চিত্রায়ন উঠে আসে তাঁর ফ্রেমে। আমার খুব ভালো লেগেছে ওর সঙ্গে কাজ করে। এতে আমি অভিনয় করেছি তাহসানের বন্ধুর চরিত্রে।

এ ওয়েব ফিল্মে তাহসানের স্ত্রীর চরিত্রে আছেন সাবিলা নূর। গল্পে তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। মাজনুন মিজান জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক কাজে ভীষণ ব্যস্ত তাহসান স্ত্রীকে মোটেই সময় দিতে পারেন না।

স্ত্রী বিবাহবার্ষিকী পালনের আয়োজন করেন, কিন্তু সেখানেও থাকতে পারেন না তাহসান। বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর স্ত্রী নিখোঁজ। কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। স্ত্রীকে খুঁজতে খুঁজতে বন্ধু মিজানকে সঙ্গে নিয়ে জাফলংয়ে পৌঁছে যান তাহসান।

আপাতদৃষ্টিতে গল্পটি সরল মনে হলেও ঘটনায় আছে অনেক উত্থান-পতন, জানালেন নির্মাতা নাহিয়ান আহমেদ। গল্পটি লিখেছেন কাজী আসাদ। এতে আরও অভিনয় করেছেন মুকুল সিরাজ।

জৈন্তাপুরে দেবরের হাতে ভাবি খুন

জৈন্তাপুরে দেবরের হাতে ভাবি খুন

 


সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় দেবরের হাতে ভাবি খুনের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের করপাড়া গ্রামে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 নিহত সোনারা বেগম (৪৫) ওই গ্রামের ওহাব মিয়ার স্ত্রী। এ দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। তারা হলেন- গ্রামের ওমার আলীর ছেলে আবদুল করিম (৪০) ও করিমের স্ত্রী শিরিন বেগম।

করিম সম্পর্কে সোনারা বেগমের দেবর হন।

খুনের ঘটনাটি সিলেটভিউকে নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর।

তিনি সিলেটভিউকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপানোর কারণে খুন হয়েছেন সোনারা বেগম।

ওসি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।




বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে বকা, শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে বকা, শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

 


মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় মোবাইলে লুডু খেলা নিয়ে বকা দেওয়ায় রতন মোল্লা নামে এক শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আরও এক শিশু আহত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কসংলগ্ন নির্জন স্থান থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার (২২ সেপ্টম্বর) মো. মেহেদী হাসান (১৮) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।


নিহত রতন মোল্লা (৮) শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকার কৃষক জসিম মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় আহত সোহান (৯) একই এলাকার নাসির সিকদারের ছেলে।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান একই উপজেলার দ্বিতীয়খণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মা বাবার সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের চরকান্দি এলাকার নানা আনসু বেপারির বাড়িতে কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বেড়াতে যান মো. মেহেদী হাসান। বাড়িতে যাওয়ার পর মেহেদী রতন মোল্লা ও সোহানের সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলতেন। মঙ্গলবার সকালে সোহানের মায়ের মোবাইলে তারা তিনজন লুডু খেলে। খেলার সময় ছোট্ট রতন ও সোহান মেহেদীকে বকা দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে মেহেদী রতন ও সোহানকে হত্যার ছক কষেন। সে মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘোরানো ও নতুন রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর কথা বলে পদ্মা সেতুর এপ্রোচ সড়ক সংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে সোহানকে পানি ও চানাচুর আনার জন্য ১০০ টাকা দিয়ে দোকানে যেতে বলেন। সোহান খাবার আনতে চলে যায় ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে গেছে। সোহান যেতেই মেহেদী রতনকে ওই নির্জন স্থানে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

প্রায় ২০ মিনিট পর সোহান এসে রতন কোথায় জানতে চায়। মেহেদী জানান, রতন বাড়ি চলে গেছে। এ কথা বলে মেহেদী সোহানকে নিয়ে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যান। সেখানে নিয়ে সোহানকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা চেষ্টা করলে চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে এবং মেহেদী নানা বাড়ি পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে।
নানা বাড়িতে পরিবারের লোকজন মেহেদীর সারা শরীরে কাদামাখা দেখে রতন ও সোহানের খোঁজ চায় স্বজনরা। কৌশলে মেহেদী বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে স্বজনরা শিবচর থানায় খবর দেয়।

পরে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থলে রতনের লাশ দেখিয়ে দেয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় মোবাইল ফোনটিও। বুধবার মধ্যরাতে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মোবাইলে লুডু খেলার সময় ওরা আমার বাবা মাকে বকা দেয়। তাই ওদের আমি হত্যা করি।’

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি মো. মিরাজ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইলে লুডু খেলার সময় বকা দেওয়া নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আটক হওয়া মেহেদী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে সপ্তাহে ক্লাস হবে দুইদিন

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে সপ্তাহে ক্লাস হবে দুইদিন

 


আগামী সপ্তাহ থেকে প্রাথমিক স্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে দুইদিন করে হবে। এখন সপ্তাহে এক দিন করে ক্লাস হচ্ছে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

এর আগে, গত সোমবার থেকে মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস এক দিন করে বাড়িয়ে সপ্তাহে দুই দিন করা হয়। তখন থেকেই প্রাথমিক স্তরের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসও এক দিন করে বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছিল।

গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। এখন চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির ক্লাস সপ্তাহে এক দিন করে হচ্ছে।

এদিকে শিশু শ্রেণি, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির মতো প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শ্রেণিকক্ষের ক্লাস আপাতত বন্ধ রয়েছে।

সিলেটে প্রভাবশালীদের পেটে সড়ক

সিলেটে প্রভাবশালীদের পেটে সড়ক

সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার কদমতলী থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের এ অংশের উভয় পাশে গড়ে উঠেছে কয়েক শ অবৈধ স্থাপনা। সড়কের জায়গা দখল করে প্রভাবশালীদের কেউ গড়ে তুলেছেন স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কেউ খোলা জায়গায় ফেলে রেখেছেন নির্মাণসামগ্রী। কেউ আবার সড়কের জায়গা ভাড়া দিয়ে আদায় করছেন মাসোয়ারা। এ অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযানে মাঠে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

গতকাল প্রথম দিন কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা চত্বর থেকে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অফিস পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশ থেকে অন্তত ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

সিসিকসূত্র জানান, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের কদমতলী থেকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশ দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। প্রভাবশালীরা যে-যার মতো সড়কের জায়গা দখল করে গড়েছেন স্থাপনা। কেউ দোকানপাট নির্মাণ করে দেদার চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। কেউ আবার মার্কেট বানিয়ে আদায় করছেন ভাড়া। সড়কের জায়গায় অবৈধভাবে এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে যা এত দিন অনেকেরই ছিল অজানা। এ অবৈধ দখলদারির বিষয়টি ধরা পড়ে সিটি করপোরেশন সড়কের পাশে ড্রেন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর।

শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালী দখলদারদের সব ধরনের অনুরোধ উপেক্ষা করে গতকাল সিটি করপোরেশন সড়কের জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করে। বুলডোজার লাগিয়ে একে একে ভেঙে ফেলা হয় অবৈধ স্থাপনা। এ সময় অনেক স্থাপনার মালিক মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে সময় চান। কিন্তু এর আগে নোটিস দেওয়ার পরও স্বেচ্ছায় স্থাপনা অপসারণ না করায় তাদের সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তারা। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও স্থানীয় কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপনের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান।

প্রথম দিনের অভিযানে সড়কের উভয় পাশের অন্তত ২০০ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় বলে জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

মেয়র জানান, এসব অবৈধ স্থাপনা স্বেচ্ছায় উচ্ছেদের জন্য আগেই সংশ্লিষ্টদের নোটিস দেওয়া হয়েছিল। মাইকিংও করা হয়েছে। কিন্তু কেউ নির্দেশনা অনুসরণ না করায় এ অভিযান। যা অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তিনি। মেয়র আরিফ জানান, সড়কের উভয় পাশে ৩০-৪০ ফুট জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা যেভাবে দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন তাতে কারোই মনে হবে না এটা সরকারি জায়গা। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সম্প্রতি ওই এলাকায় রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময়ই অবৈধ স্থাপনাগুলো অপসারণের প্রয়োজন পড়ে। এ ছাড়া সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে ওই জায়গায় ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে করা হবে। সড়ক সম্প্রসারণ করে ডিভাইডার বসানো হবে। এজন্য বিদ্যুতের খুঁটিও সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে কদমতলী থেকে পুব দিকের সড়ককে একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনায় পরিণত করা হবে। এতে শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, জনদুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। জনগণও উপকৃত হবেন।

সিসিকের দাবি ৪৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ চায় ২৫ কোটি

সিসিকের দাবি ৪৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ চায় ২৫ কোটি

 


 

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ৪৫ কোটি টাকা দাবি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে। বিদ্যুতের আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূগর্ভস্থ) তার বসাতে গিয়ে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংস্কার বাবদ এই টাকা দাবি করেছে সিসিক। অন্যদিকে, সিসিকের কাছে বকেয়া বিল বাবদ ২৫ কোটি টাকা চাইছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বকেয়া বিল জমতে জমতে ৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। চলতি বছর দুই ধাপে ১০ কোটি টাকাo  পরিশোধ করে সিসিক। বাকি টাকার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে চাপ আছে সিসিকের উপর।

 

 সিসিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার বিদ্যুতের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল (ভূগর্ভস্থ তার) স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপদ বিদ্যুতায়ন ও মাটির উপরস্থ তারের জঞ্জাল থেকে মুক্তি পেতে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আগামীতে আরও ২৫ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক তার স্থাপন করা হবে নগরীতে।

সিসিক বলছে, সাড়ে ১৪ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক তার স্থাপনে খুড়াখুড়ির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে সবমিলিয়ে সিসিকের ব্যয় হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা। যেহেতু কাজ করেছে পিডিবি, সেহেতু সংস্কারের এই টাকা তাদেরই দেওয়ার কথা।

এই ৪৫ কোটি টাকা চেয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে সিসিক।

জানতে চাইলে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল প্রকল্প বাস্তবায়নে রাস্তার অনেক ক্ষতি হয়। রাস্তা মেরামত করেছি আমরা। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ৪৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।’

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগ বকেয়া বিল বাবদ সিসিকের কাছে ২৫ কোটি পাবে। বছরের পর বছর ধরে বিল বকেয়া হতে হতে এই টাকার পাহাড় জমেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিতরণ অঞ্চল সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদির সিলেটভিউকে জানান, ওয়ান-ইলেভেনের (সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সময় সিসিক কর্তৃপক্ষ বিদ্যুতের সকল বকেয়া পরিশোধ করেছিল। এরপর থেকে বিল বকেয়া রাখতে শুরু করে সিসিক। বার বার তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠালেও বিল সব পরিশোধ করা হয়নি। সিসিক অর্থ সংকটের কথা বলে।

সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, ‘বিদ্যুতের বকেয়া ৩৫ কোটি টাকা ছিল। এ বছর ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সর্বশেষ গেল জুনে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয় বিদ্যুৎকে। বর্তমানে তারা ২৫ কোটি টাকা পাবে সিসিকের কাছে।’

নূর আজিজ জুনে পাঁচ কোটি টাকা পরিশোধের কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে মে মাসে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭২৩ টাকা পরিশোধ করে সিসিক।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল কাদির অতি সম্প্রতি সিলেটভিউয়ের সাথে আলাপকালে সিসিকের কাছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৩৫ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেন।

তবে পিডিবির বিতরণ অঞ্চল সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেটভিউকে বলেন, ‘আসলে হিসেবে একটু গড়বড় হয়ে গেছে। ৩৫ কোটি ছিল আগে, তারা (সিসিক) ১০ কোটি পরিশোধ করেছে। এখন বকেয়া ২৫ কোটি টাকা। অবশ্য সিলেট মহানগরীর সব থানা এলাকা মিলিয়ে ৩৫ কোটি টাকার মতো বকেয়া আছে।’

সিলেট মহানগরীতে ছয়টি থানা আছে। এসব থানার আওতাভুক্ত সকল এলাকা সিসিকের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। সম্প্রতি সিসিকের আয়তন বাড়ায় এসব এলাকা অন্তভূর্ক্ত হয়েছে। তবে নতুন অন্তর্ভূক্ত এলাকায় এখনও সিসিকের কার্যক্রম শুরু হয়নি।

বিদ্যুতের বকেয়া বিষয়ে আরও জানতে সিলেটভিউয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (হিসাব) বিধু ভূষণ চক্রবর্তীর সাথে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পিডিবির বিতরণ অঞ্চল সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল করিমের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল করিম সিলেটভিউকে বলেন, ‘সিসিকের কাছে বিদ্যুতের বড় অঙ্কের বিল বকেয়া। আমরা তাদেরকে বিল পরিশোধের জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছি।’

সিসিকের ৪৫ কোটি টাকা পাওনা দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনারা যে টাকা দাবি করেছেন, সেটা সাম্প্রতিক আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল টানা কাজের। আর বিদ্যুতের বকেয়া কিন্তু অনেক আগের।’

এদিকে, সিসিকের দাবিকৃত ৪৫ কোটি টাকা এবং বিদ্যুতের পাওনা ২৫ কোটি টাকার মধ্যে সমন্বয় করা যায় কিনা, সে আলোচনাও চলছে।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, ‘আমরা সমন্বয় করতে চাই। এখন তাদের দিক থেকেও সাড়া আসতে হবে।’

পিডিবির বিতরণ অঞ্চল সিলেটের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলুল করিম বলেন, ‘সমন্বয়ের বিষয়টি উপর মহলের বিষয়। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে হবে।

হিসাবের খাতায় দেশে চাল ‘উদ্বৃত্ত’, বাস্তবে আমদানিনির্ভর

হিসাবের খাতায় দেশে চাল ‘উদ্বৃত্ত’, বাস্তবে আমদানিনির্ভর

 


স্বাধীনতাত্তোর দেশে চালের উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ। সরকার বলছে, চাল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ। তবু প্রতিবছর থাকছে ঘাটতি। দামও থাকছে বলা যায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আমদানিনির্ভরতাও এখনো কাটেনি। তাই স্বয়ংসম্পূর্ণতার এ সুখবর অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে চাল উৎপাদনের পরিমাণ কত? কৃষি মন্ত্রণালয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে পরিসংখ্যান দিচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল কতটুকু? বিশ্লেষকেরা বলছেন, চালের উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের দেওয়া তথ্যে রয়েছে ফাঁকফোকর।

 

বিষয়টি উঠে এসেছে সম্প্রতি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলমের কথায়ও। প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারের কৃষিখাত সংশ্নিষ্টরা চাল উৎপাদনের যে তথ্য দেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বিবিএসের (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ধরে হিসাব করলে দেশে বছরে দুই কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি চালের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মোট উৎপাদন এর চেয়ে অনেক বেশি।

‘উৎপাদন যদি চাহিদার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এত চাল গেলো কোথায়? কেন আমদানি করতে হচ্ছে’- প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রীর।

তবে এ নিয়ে কৃষি সংশ্লিষ্টদের পরিষ্কার কোনো যুক্তি-ব্যাখ্যা নেই। তারা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের অভিঘাতে চালের উৎপাদন কম-বেশি হচ্ছে। এছাড়া উৎপাদন পরবর্তী প্রচুর ধান-চাল নষ্ট হয়। প্রতি বছর উৎপাদিত ধান-চাল যে পরিমাণে নষ্ট হয়, তা কমানো গেলে চাল আমদানির প্রয়োজন হবে না।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর গড়ে ৬৭ লাখ টন চাল নষ্ট হয়। এ ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা গেলে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন বাড়তি চাল পাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, দেশে এ পর্যন্ত বার্ষিক সর্বোচ্চ চাল আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯ লাখ টন। এবছরও প্রায় ৩০ লাখ টন চাল আমদানি করছে সরকার। এরমধ্যে আগে এসেছে ১৩ লাখ টন। নতুন করে ১৭ লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়াধীন। সে অনুযায়ী উৎপাদিত ধান-চাল নষ্ট হওয়ার মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব হলে প্রকৃতপক্ষেই চালে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতো দেশ।

 

 

 

 

মিলছে না আশানুরূপ ইলিশ, প্রভাব বাজারে

মিলছে না আশানুরূপ ইলিশ, প্রভাব বাজারে

ইলিশের ভরা মৌসুম হলো বর্ষাকাল। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এ বছর আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়েনি। বাজারে ইলিশও ছিল কিছুটা কম। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে পার্শ্ববর্তী দেশে ইলিশ পাচারের। ফলে বাড়তি দামসহ সার্বিক প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজারে।

ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ইলিশ অনেক কম। শুধু নদীতেই নয় উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র দুটোতেই ইলিশ কম। দুই বছরের করোনা পরিস্থিতিতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের ঢিলেঢালা দায়িত্বপালনের কারণে প্রচুর পরিমাণে জাটকা নিধন হয়েছে। এই দুই বছর জাটকা শিকারের কারণে যত জেলে ধরা পড়েছেন তাদের অধিকাংশকে আংশিক জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়ায় তারা পুনরায় জাটকা নিধন করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া নদীতে পলির আধিক্য, স্রোতহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণসহ নানা কারণে ইলিশের গতিপথ প্রতিকূল হয়ে উঠেছে। ইলিশ বাজারে কম আসায় দামও কিছুটা বেশি।

 

জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় চলতি বছর একই সময় বাজারে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বর্তমানে চাঁদপুরের স্থানীয় বাজারে ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, একই ওজনের ভোলা-বরিশালের ইলিশ এক হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা, মিঠাপানির মাঝারি সাইজের তাজা ইলিশের দাম কেজিপ্রতি এক হাজার টাকা এবং একই সাইজের বরিশাল অথবা উপকূলীয় এলাকার মাছের দাম সাড়ে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে ইলিশ। প্রায় ৬ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। সীমান্তের দুই পাশেই বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা ইলিশ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনীতির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করার পর ২০১২ সালে ভারতে ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো রয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে প্রচুর চাহিদার কারণে ইলিশের দামও ঠেকেছে আকাশে, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার রুপিতে বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। এর জেরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ইলিশ পাচার হচ্ছে ভারতে। কলকাতায় পৌঁছানো বেশিরভাগ ইলিশ যাচ্ছে নদীপ্রধান আঙ্গরাই-হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি সীমান্ত দিয়েও পাচার হচ্ছে কিছু ইলিশ। সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের একটি সীমান্তচৌকিতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ জব্দ করেছে।

 

 

এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫২ প্রতিষ্ঠানকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ মেট্রিক টন করে মোট ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ইলিশ পাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদপুরের আড়তদার মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গিয়াস উদ্দিন খান বিপ্লব জাগো নিউজকে বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইলিশ যাচ্ছে, আজও হয়তো গেছে। এগুলো নিশ্চয়ই কোনো ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমেই হয়। আনঅফিসিয়ালি আগে থেকেই যাচ্ছে এবং যায়। এর ফলে দেশের বাজারে ইলিশের দামে প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, ভারতে তো অফিসিয়ালি, আনঅফিসিয়ালি ইলিশ মাছ যাচ্ছে। ইলিশ রপ্তানি তো নিষিদ্ধ, সেখানেও দুর্নীতি আছে। পূজার জন্য ৫২ প্রতিষ্ঠান ইলিশ ভারতে রপ্তানি করতে পারবে। ইতোমধ্যে তারা বাজার থেকে মাছ কিনতে শুরু করেছে। ঘটনা হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুই হাজার টন মাছ দেবে, আগের বছরগুলোতে যা ছিল আরও কম। ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ভারতের পার্টিগুলো কতো টন মাছ নিচ্ছে সেটি নজরদারিতে রাখা উচিত। তারা কী দুই হাজার টনের জায়গায় ২০ হাজার টন নিচ্ছে কি-না সেদিকে নজর রাখা হয় না। আমি গত দুই বছরে দেখেছি, ভারতের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান মাছ কিনে তারা চাঁদপুর, বরিশাল, ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মাছ কিনেছে। ফলে সেটি নজরদারির আওতায় আনা উচিত।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে এই সময় ইলিশ একটু কম ধরা পড়ছে। চর-ডুবোচর, নাব্যতা সঙ্কটের জন্য প্রধান নদ-নদীতে অন্যান্য বছর যেভাবে ইলিশ এসেছে এ বছর সেভাবে ইলিশ আসছে না এটা ঠিক। কিন্তু গভীর সমুদ্রে এভেইলেবলিটি আছে। কিন্তু প্রধান নদ-নদীতে না আসার কারণে এ রকম একটা আলোচনা আসছে। অমাবস্যা-পূর্ণিমা আসছে, এ সময় কিন্তু তারা ডিম ছাড়ার জন্য এদিকে আসবে বলে আশা করা যায়। তাই সেভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অস্ট্রেলিয়া

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অস্ট্রেলিয়া

 


ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী মেলবোর্নে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ভূমিকম্পে শহরের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় সময় বুধবার ৯টা ১৫ মিনিটে ম্যানসফিল্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এটি মেলবোর্নের খুব কাছেই অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, আমরা গুরুতর আঘাতের কোনো খবর পাইনি এবং এটা একটি ভালো সংবাদ।

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 


 ১৫ দফা দাবি আদায়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-প্রাইম মুভার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহনকারী মালিক-শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ জন নেতা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে তাদের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তিন দিন অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত পর্যন্ত তাদের এই ধর্মঘট চলার কথা রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ইতিমধ্যে বন্দরগুলোতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়করের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বর্ধিত আয়কর অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ইতোমধ্যে আদায় করা বর্ধিত কর মালিককে ফেরত দিতে হবে।

যেসব চালক ভারী মোটরযান চালাচ্ছেন তাদের সবাইকে সহজশর্তে এবং সরকারি ফির বিনিময়ে অবিলম্বে ভারী ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে পুনরায় হয়রানিমূলক ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।

পণ্য পরিবহন খাতের ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, প্রাইম মুভার, ট্রেইলার প্রভৃতি সরকার নিবন্ধিত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর গঠনতন্ত্র সম্মত কল্যাণ তহবিলের চাঁদা সংগ্রহের ওপর কোনো অজুহাতেই বিধিনিষেধ আরোপ করা চলবে না।

 

 

চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার শ্রমিক ইউনিয়ন কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা প্রস্তাব বা সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সব ধরনের মোটরযানে নিয়োজিত সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মতো রেশনিং সুবিধার আওতায় আনতে হবে।

চট্টগ্রামে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মনোনীত প্রতিনিধি এবং সব ড্রাইভার ও সহকারীকে চট্টগ্রাম বন্দরে হয়রানিমুক্তভাবে প্রবেশের সুবিধার্থে বাৎসরিক নবায়নযোগ্য বায়োমেট্রিক স্মার্টকার্ড দিতে হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ কাভার্ডভ্যান-ট্রাক-প্রাইমু ভার পণ্যপরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মকবুল আহমদ ও মহাসচিব চৌধুরী জাফর আহম্মদ, বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির এবং মহাসচিব ওয়াজি উল্লাহসহ অন্য নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।